মাউস এর ব্যবহার এবং এডভান্স সেটিং – কম্পিউটার মাউস নিয়ে বিস্তারিত ব্লগ!

আজকের টপিক – মাউস এর ব্যবহার এবং এডভান্স সেটিং নিয়ে বিস্তারিত ব্লগ! মাউস কম্পিউটারের অনেক প্রয়োজনীয় একটি হার্ডওয়্যার পার্ট। আজকের ব্লগে আমরা মাউসের ব্যবহার এবং এডভান্স সেটিং বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।

আপনি লেপটপ ইউজার? তবুও মাউস এর ব্যবহার ছাড়া চলেনা?

প্রশ্নের উত্তর গুলো আমার ক্ষেত্রে – সত্যি বলছি আমার মাউস ছাড়া কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়, তাই বলাই যায় মাউস এর ব্যবহার ছাড়া আমার কাজ সঠিক ভাবে হয়না।

আপনার ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম হলেও হতে পারে। অনেকেই মাউস ছাড়া অনেক সুন্দর ভাবেই লেপটপে কাজ চালিয়ে নিতে পারে।

ভুমিকাতে অনেক বকবক করলাম। আসুন এবার মাউসের কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ে জানি।

মাউসের ব্যবহার

  • স্ক্রোল হুইল এর ব্যবহার
  • ডাবল ক্লিক ও ট্রিপল ক্লিকের ব্যবহার
  • রাইট ক্লিকের ব্যবহার
  • Ctrl কী ও মাউস ক্লিক এর ব্যবহার
  • মাউসের দুই সাইড বাটনের ব্যবহার

স্ক্রোল হুইল এর ব্যবহার :

Mouse Scroll

ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার সময় অনেক সময় বিভিন্ন লিঙ্ক এর ক্লিক করে নতুন ট্যাবে এ যেতে হয়। এই ক্ষেত্রে মাউসের ক্রোল হুইলে ক্লিক করলে অটোমেটিক নতুন ট্যাবে ওপেন হয়।

সুতরাং মাউসের স্ক্রোল হুইলের ব্যবহারের মধ্যে এই লিঙ্ক ক্লিক এর ব্যবহারটি এখন অনেক জনপ্রিয়। আপনি যদি জেনে না থাকেন, তাহলে আজই যেকোন লিঙ্ক এ মাউসের স্ক্রোল হুইল দিয়ে ক্লিক করে দেখতে পারেন।

Shift কী চেপে ধরে যখন মাউসের স্ক্রোল হুইল ঘুরাবেন তখন অনেক দ্রুত এটি উপর নিচের দিকে উঠা নামা করবে।

এছাড়া Ctrl কী চেপে ধরে উপরে বা নিচে ক্রোল করে বড় ছোট করানো যায়।

ডাবল ক্লিক ও ট্রিপল ক্লিকের ব্যবহার:

যেকোন একটি শব্দ বা অক্ষর সিলেক্ট করার জন্য মাউসের বাম পাসের বাটন ডাবল ক্লিক করলেই সিলেক্ট হয়ে যাবে।

আর যদি একটি লাইন বা পেরাগ্রাফ সিলেক্ট করতে চান, তাহলে সেই লাইন বা পেরাগ্রাফ এর যেকোন স্থানে ট্রিপল ক্লিক করুন, সেখবেন সিলেক্ট হয়ে গেছে।

রাইট ক্লিকের ব্যবহার:

কোন ফাইল বা ডকোমেন্ট এর উপর রাইট ক্লিক করলে, সেই ফাইল বা ডকোমেন্ট টিকে অন্য কোথাও মুভ করা,কপি করা বা সেই ফাইল টির প্রোফারটিস দেখা সহ আরো অনেক কিছু করা যায়।

এছাড়া কোন ফাইল বা ডকোমেন্টস কে রাইট ক্লিক করে কোথায় ছেড়ে দিলে সেটি কপি বা মুভ হওয়ার অপশন চলে আসবে।

Ctrl কী ও মাউস ক্লিক এর ব্যবহার:

কিবোর্ড এর কনট্রোল কী চেপে ধরে অনেক গুলো ফাইল বা ডকোমেন্ট কে মাউস ক্লিকের মাধ্যমে সিলেক্ট করা যায়।

এছাড়াও Shift কী চেপে ধরে অনেক গুলো ফাইল এর সবার প্রথম ফাইল টি ক্লিক করবেন এবং Shift কী চেপে ধরা অবস্থায় অনেক গুলো ফাইলের একেবারে লাস্টের ফাইল টি মাউস ক্লিক করলে দেখবেন সব গুলো একেবারে সিলেক্ট হয়ে গেছে।

মাউসের দুই সাইট বাটনের ব্যবহার: 

বর্তমানের সব মাউসের দুই সাইটে দুইটি বাটন থাকে, এই বাটন গুলোকে বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগানো যায়। বাম পাশের বাটন টি ক্লিকের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়ে থাকে। আর ডান পাশের বাটন টি কোন কিছুর প্রোপারটিস দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।

মাউসের ব্যবহার নিয়ে অনেক কিছুই জেনেছি, এবার আসুন মাউসের কিছু এডভান্স সেটিং নিয়ে জানি।

মাউসের এডভান্স সেটিং

প্রথমে উইন্ডোজ এর সার্চ বক্সে Mouse Setting লিখে সার্চ দিন। দেখবেন Mouse Settings এর একটি অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করলে নিচের স্কিন সর্টের মতন দেখতে পাবেন –

Mouse options

উপরের স্কিন সর্টে লাল দাগ দেওয়া “Additional mouse options”, এ ক্লিক করলে নিচের স্কিন সর্টের মতন অন্য আরেক টি ট্যব ওপেন হবে –

মাউস এর ব্যবহার: Mouse Properties

উপরের ছবিতে দেখুন, মাউসের কিছু লাল দাগ দেওয়া প্রোপারটিস দেখাচ্ছে – “Button, Pointer, Pointer Options, Wheel”, ইত্যাদি। আমরা স্টেপ বাই স্টেপ এই প্রোপারটিস গুলো নিয়ে বিস্তারিত জানব।

Button মেনু:

মাউস এর ব্যবহার: Button Properties

প্রথমে আমরা বাটন মেনুতে ক্লিক করলে উপরে ছবির মত দেখা যাবে। এই ছবি থেকে আমরা বুঝতে পারছি, এখানে বুঝানো হচ্ছে আমরা মাউসের কোন সাইটের বাটন দিয়ে ক্লিকের কাজ গুলো করতে চাচ্ছি।

ডিফল ভাবে মাউসের বাম সাইটের বাটন দিয়ে আমরা ক্লিকের কাজ গুলো করে থাকি, এখন যদি আপনি ডান সাইটের বাটন দিয়ে ক্লিকের কাজ গুলো করতে চান, তাহলে নিচের স্কিন সর্টে লাল দাগ দেওয়া – “Switch primary and secondary buttons”, এই অপশনটি ক্লিক করে Apply বাটন চাপ দিয়ে সেভ করে নিতে হবে।

Pointer মেনু:

Pointer মেনুতে ক্লিক করলে নিচের স্কিন সর্টের মত দৃশ্যপট দেখতে পাবো –

মাউস এর ব্যবহার: Select Pointer Menu

 

উপরের ছবিতে লাল দাগ দেওয়া অনেক গুলো অপশন দেখতে পাচ্ছেন “Normal Select, Help Select, Working Background, Busy, Precision Select”, এই অপশন গুলোর যে কোন একটা সিলেক্ট করে আপনি ইউজ করতে পারেন।

এর মধ্যে একটা অপশন দেখুন Plus চিহ্ন দেওয়া, এটিতে ক্লিক করলে আরো অনেক টাইপের আইকন দেখতে পাবেন।

আপনার যেই আইটন ভাল লাগে সেটি সিলেক্ট করে Apply বাটনে চাপ দিয়ে সেভ করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

Pointer Options মেনু:

 

এই মেনুতে সবার প্রথম যেটি দেখতে পাবেন, সেটি হলো – মাউসের স্প্রিড বাড়ানো বা কমানোর একটি স্ক্রোল অপশন। নিচের স্কিন সর্ট টি দেখুন –

Pointer Options

স্প্রিড বাড়ানো কমানোর নিচে আরো অনেক গুলো অপশন দেখতে পাবেন, যেমন “Automatically move pointer to the default button in a dialog box, Display pointer trails, show location of pointer when i press the CTRL key”, এই অপশন গুলো। নিচের স্কিন সর্টে লাল দাগ দেওয়া আছে –

মাউস এর ব্যবহার: Automatically move

উপরে লাল দাগ দেওয়া “Automatically move pointer to the default button in a dialog box”, লেখাটিতে টিক দিলে ডিফল ভাবে বাটিন তৈরি হয়ে যাবে।

এর পরে লাল দাগ দেওয়া “Display pointer trails”, এটিতে টিক দিলে মাউসের পয়েন্টার ডাবল ভাবে Show করবে।

লাল দাগ দেওয়া আরেক টি অপশন “show location of pointer when I press the CTRL key”, এটিতে টিক দিয়ে আপনার কিবোর্ডের Ctrl এ প্রেস করে দেখুন কি দেখাচ্ছে। একটু খেয়াল করলে দেখবে আপনার মাউসের পয়েন্টার থেকে গোল আকৃতির কিছু একটা বের হচ্ছে।

Wheel Options মেনু:

এই অপশনে আপনার মাউসের গোল স্ক্রোলিং চাকা কত স্প্রিডে উঠা নামা করবে এটি নির্ধারণ করবে। নিচের স্কিন সর্ট টি দেখতে পারেন –

Whell Options

শেষ কথা

মাউসের ব্যবহার এবং এডভান্স সেটিং নিয়ে উপরের আলোচনায় চেষ্টা করেছি অনেক কিছু বিস্তারিত বলার। আমার এই টিপস গুলো আপনার কোন কাজে একটুও যদি হেল্প হয়ে থাকে তাহলে প্লিজ ব্লগ টি শেয়ার করে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ

উইন্ডোজ রিলেটেড আরো কিছু ব্লগ – যা আপনার জানা দরকার

Kawkab Nadim

Hey guys, How are you? You Want to know about me? My Name is Kawkab Nadim!, Internet Marketer with over 1 years experience in Traffic Generation. This is my blogging website. Because I love blogging!

Leave a Reply