ইউটিউব এসইও কিভাবে করবেন? বিস্তারিত জানতে ব্লগটি পড়তে পারেন।

1
1355
ইউটিউব এসইও

আপনাকে স্বাগতম আমার ওয়েবসাইটে। আজকে আমি কথা বলবো – ইউটিউব এসইও নিয়ে। ইউটিউবে আমরা যে কনটেন্ট আপলোড দেই, সেই কনটেন্ট গুলো আপলোড দেওয়ার আগে, আপলোড দেওয়ার সময় এবং আপলোড দেওয়ার পরে কিছু ইস ইয়ও করে নিতে হয়।

কিভাবে ইউটিউব এসইও করতে হয় এই টিপিকে আমি কিছু টিপস নিয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করব। আশাকরি আজকের ব্লগটি আপনার জন্য ইউটিউব এসইও এর ক্ষেত্রে পজিটিভ নলেজ দিবে।

 কনটেন্ট রাইটার হিসেবে অনলাইনে কাজ করুন – Info Here…

SEO বলতে আমরা কি বুঝি ?

এসইও এর ফুল টার্ম হলো – সার্স ইঞ্জিন অফটিমাইজেশন। অর্থাৎ আপনার কনটেন্টকে এমন ভাবে গুগলের/ইউটিউব এর  কাছে অপটিমাইজ করুন যেন – গুগল/ইউটিউব বুঝতে পারে এটা ভালো একটা কনটেন্ট, যেই কনটেন্ট টি মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া খুব দরকার।

গুগল এর সার্স ইঞ্জিন এবং ইউটিউবের রোবট যখন বুঝবে যে আপনার কনটেন্ট টি সত্যিই দরকারি তখন আপনার সেই অপটিমাইজ করা কনটেন্ট টি গুগল/ইউটিউব মানুষের কাছে পৌছে দিবে। আর এভাবেই আপনার কনটেন্ট গুলোর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা আপনার কোন ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয় হয়ে যাবে।

এসইও নিয়ে অনেক আর্টিকেল আছে, মানুষ অনেক ভাবে এসইও নিয়ে কথা বলেছে। আমার মনে হলো আমিও আমার জানা নলেজ গুলো আপনার সাথে শেয়ার করি। তবে আমি আজ বলবো ইউটিউব কনটেন্ট কে কিভাবে এসইও করতে হয় –

  • কনটেন্ট আপলোড দেওয়ার আগে।
  • আপলোড দেওয়ার সময় এবং
  • কনটেন্ট আপলোড দেওয়ার পরে।

আপলোড দেওয়ার আগে SEP বা Off-Page SEO 

প্রথমে আপনার চ্যানেলের জন্য যে ভিডিও কনটেন্ট টি আপলোড দিবেন সেটির এডিটিং এর কাজ গুলো শেষ করে নিবেন। এডিটিং করার পরে, আপলোড দেওয়ার আগে কিছু অফপেইজ এসইও করে নিলে আপনার ভিডিও কনটেন্ট টি রাংক করার ক্ষেত্রে ভালো ভুমিকা পালন করবে।

ভিডিও কনটেন্টটির নাম দিবেন – যেই টিপিক নিয়ে আপনি ভিডিও মেক করেছেন, সেই টপিক মত নাম দিবেন। এমন কোন নাম দিবেন না যেই নামের সাথে ভিডিও কনটেন্ট এর টপিকের সাথে কোন মিল নেই।

তারপর ভিডিওর প্রোপার্টিস থেকে ডিটেইলস এ গিয়ে ভিডিও সম্পর্কে কিছু সঠিক সত্যি লিখে দিবেন। টাইটেল,সাবটাইটেল,রেংকিং মার্ক,ট্যাগ,কমেন্ট,অথোর নেম ইত্যাদি যত ইনফরমেশন আছে। সব ইনফরমেশন সঠিক ভাবে বসিয়ে দিবেন। নিচের স্কিন সর্ট গুলো দেখলে আশাকরি বুঝে যাবেন।

Off-Page SEO শুধু কি ভিডিও কনটেন্ট এর জন্যই করবেন? – না,শুধু ভিডিও কনটেন্ট এর জন্য না। আপনার ভিডিওর থামনেইল এর জন্যও সেইম ভাবে অফপেইজ এসইও গুলো করে নিবেন।

থামনেইল যখন ক্রিয়েট করবেন। তখন থামনেইল এর ইমেজ জে পি জি ফরমেটে রেখে সেব করে নিবেন। পি এন জি ফরমেটে সেব করলে কিন্তু অপটিমাইজ করতে পারবেন না।

অনলাইন থেকে ইনকাম সত্যিই কি সম্ভব? Info Here…

Off-Page SEO করুন আপলোডের সময়

অনপেইজ অপটিমাইজ এর কাজ একটু বেশি। এখানে আপনার ধৈয্যের প্রমান দিতে হবে। আনলিস্ট অবস্থায় আপলোড দিয়ে অনপেইজ এর কাজ গুলো করবেন। অনপেইজ অফটিমাইজ করতে অনেক গুলো পার্ট খুব ভালো ভাবে অনুসরন করে করতে হয় –

সঠিক টাইটেল টি বাচাই করা – সাপোস আপনি ইউটিউব এসইও নিয়েই একটি ভিডিও মেক করলেন। এখন এই ভিডিও কনটেন্ট টির টাইটেল কি দিলে আপনার এসইও স্কর ভালো হবে সেটা আপনাকে চিন্তা করে বাছাই করে নিতে হবে।

এসইও স্কোর দেখার জন্য এখন অনেক ফ্রি টুলস ব্যাবহার করতে পারেন। VIdiQ,TubeBuddy এই দুইটা ফ্রি এক্সটেনশন গুগল ক্রোম থেকে ইনস্টল করে নিলেই এসইও স্কোর দেখে নিতে পারবেন।

ডিসক্রিপশন সঠিক ভাবে লিখা – ইউটিউব আপনাকে ডিসক্রিপশন লিখার জন্য ৫০০০ ক্যারেক্টার ইউজ করতে দিচ্ছে। আর আপনি ১০০/২০০ কারেক্টারের মাধ্যমে একটি ডিসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন,তাহলে কিভাবে আপনার ভিডিও রেংক করবে? আপনাকে ভিডিও রিলেটেড ১৫০০-২০০০ ক্যারেক্টারের একটি ডিসক্রিপশন লিখে দিতে হবে।

এতে আপনার ভিডিওটি ইউটিউব রোবটের কাছে অনেক ভালো ভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং আপনার ভিডিওটি রেংক করবে। ডিস্ক্রিপশনে আপনি আপনার ভিবিন্ন সোসাইল মিডিয়ার লিংক,ওয়েবসাইট লিংক,ভিডিও রিলেটেড কিছু কি ওয়ার্ড দিয়ে দিবেন। এভাবে এটলিস্ট ১৫০০-২০০০ ক্যারেক্টারের একটি ডিসক্রিপশন দেওয়া চেষ্টা করবেন।

ট্যাগ বাছাই করা – ইস ইয়ওর জন্য ট্যাগ বাছার করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন না হলেও মোটামুটি ভাল মানের পজিটিব রেজাল্ট নিয়ে আসার জন্য ট্যাগের প্রয়োজন আছে। অনেকে উলটা পালটা ট্যাগ ইউজ করে থাকেন যেন, ভিডিও র‍্যাংক করে! এসব করবেন না। এসব আপনার ভিডিওর জন্য বেড এফেক্ট পেলবে।

আর এখন ইউটিউব অনেক আপডেট। রুলস রেগুলেশন অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে আরো। ট্যাগ দিবেন আপনার কনটেন্ট রিলেটেড। ট্যাগ দেওয়ার জন্যও ৫০০ ক্যারেক্টারের একটি সীমা ইউটিউব দিয়ে দিয়েছে। আমি সাজেস্ট করবো ২০০-২৫০ ক্যারেক্টারের মধ্যেই ট্যাগ দিবেন। এর কম বা বেশি দরকার নেই।

আপলোড ১০০% কমপ্লিট হয়ে গেলে কিছু SEO করে নিবেন

আনলিস্ট অবস্থায় যখন ১০০% আপলোড শেষ হয়ে যাবে তখন কিছু কাজ করে নিবেন –

ইন্ড স্কিন – আপনার ভিডিওর লাস্টে অনান্য ভিডিওর লিংক গুলো এড করে দেওয়া। এতে আপনার ভিউ বাড়বে। সাপোস, আপনি এসইও রিলেটেড একটি ভিডিও আপলোড দেওয়ার সময়, এসইও রিলেটেড ভিডিও টির শেষে আপনি ইচ্ছে করেল অন্য আর একটি এসইও রিলেটেড ভিডিওর লিংক এড করে দিতে পারেন, যেই ভিডিওটি আপনি এই ভিডিওর আগেই আপলোড দিয়েছিলেন।

এই কাজ গুলো করে রাখলে – মানুষ যখন আপনার একটি ভিডিও দেখার পর ভিডিওর শেষ অংশে এসে যখন দেখবে সেইম টপিকের আরোঁ একটি ভিডিওর লিংক আপনি দিয়ে রেখেছেন, এতে আপনার ভিউ বাড়বে। কারন একটা ভিডিও থেকে যদি মানুষ ভালো মানের ভেলু পেয়ে থাকে তাহলে আপনার অন্য ভিডিওটিও মানুষ দেখবে।

আর আপনার অন্য ভিডিও গুলো যদি এভাবে ইন্ড স্কিন এর মাধ্যমে সাজিয়ে রাখেন তাহলে ব্যাপারটা অডিয়েন্সদের জন্য অনেক সুবিধা। কষ্ট করে আর আপনার চ্যানেলে গিয়ে দেখতে হলোনা। ইন্ড স্কিন এর কাজ ছোট করে বললে দাঁড়ায় – আপনার কনটেন্ট গুলোকে ভিডিও এর লাস্টে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া। নিচের স্কির্ন সর্টে দেখানো হলো –

End Screen-youtube seo

 

কার্ড – কার্ড হলো আপনার ভিডিও গুলো একটু অন্য রকম ভাবে অনেক গুলো ভিডিওর লিংক সাজিয়ে রাখা। ভিডিওটি যখন প্লে করবেন – তখন ভিডিওর ডানে উপরের কোনায় আই অক্ষরের একটা অপশন দেখা যায় এই আই অক্ষরের মত অপশনটি কেই কার্ড বলা হয়।

আপনি যখন কার্ড অপশনে গিয়ে আপনার অন্যান্য ভিডিও বা ভিডিওর প্লে লিস্ট গুলো এই কার্ডের মাধ্যমে একটা ভিডিওর ভিতর সেট করে দিবেন। এতে আপনার অনপেইজ এসইওর আরো একটি কাজ হয়ে যাবে।

অডিয়েন্স যখন আপনার একটা ভিডিও দেখতে দেখতে উপরের ডান দিকের ঐ আই অপশনে ক্লিক করবে – তখন আপনার চ্যানেলের অন্যান্য কিছু ভিডিওর লিঙ্ক দেখা যাবে।

যদি অডিয়েন্স এর কাছে মনে হয় আপনার কার্ড অপশনের মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও গুলো ভালো হতে পারে, তখন কিন্তু অডিয়েন্স ক্লিক করতেই পারে। আর এবাবেও আপনার ভিউস বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্কির্ন সর্ট গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন –

card-youtube seo

সাবটাইটেল – আপনার ভিডিওটি যদি ইংরেজি ভাষা ছাড়া অন্যা ভাষার হয়ে থাকে। তাহলে চেষ্টা করবেন ইংরেজি সাবটাইটেল ইউজ করতে। এতে আপনার অনপেইজ ইস ইয়ও খুব ভালো হবে। স্কিন সর্ট নিচে দেওয়া হলো – 

subtitle-youtube seo

সোসাইল মিডিয়াতে শেয়ার করা – আপনি যদি এডসেন্স এর জন্য ভিডিও মেক করে থাকেন তাহলে আপনি ভিডিওটি আনলিস্ট থেকে পাবলিক করার পরে ভিবিন্ন সোসাইল মিডিয়াতে শেয়ার দিবেন। এতে আপনার প্রচুর পরিমানের ভিউস পাওয়া সম্ভব।

বুঝতেই পারছেন অনপেইজ এসইও একটু সময় নিয়েই করতে হবে আপনাকে। ভিডিও আপলোড দেওয়া সময় কিছু এসইও,আবার আপলোড দেওয়র পরেও কিছু এসইও করে নিতে হয়।

FAQ

ইউটিউব এসইও নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করলাম। এসইও নিয়ে সামনে আরো আর্টিকেল আমি সময় পেলে লিখবো। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার ফ্রেন্ড দের সাথে শেয়ার করবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।

ধন্যবাদ !

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here