এসইও এক্সপার্ট হতে চাচ্ছেন? বিস্তারিত বাংলা ব্লগটি আপনার জন্য।

এসইও এক্সপার্ট হতে চাচ্ছেন? বিস্তারিত বাংলা ব্লগটি আপনার জন্য।

আমার ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আজকের আর্টিকেলের টপিক – এসইও এক্সপার্ট হতে চাচ্ছেন? বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ ব্লগ টি পড়ুন। আমি এমন একটি টপিক নিয়ে আলোকপাত করবো যেটা , অনেকেই মনে মনে পারে বাট প্রাক্টিক্যালি পারে এর পরিমান খুবি কম।

এসইও এক্সপার্ট ব্যপারটা সত্যিই অনেক পরিশ্রমের একটি অধ্যায়। পরিশ্রম মানেই কঠিন কিছু নয়, যেকোন স্কিল শিখার ক্ষেত্রে মন দিয়ে লেগে থাকলেই সফলতা আসবে ইনশাল্লাহ।

যারা প্রাক্টিকেলি এসইও পারে তাদের নিয়ে কিছু বলার নেই,কারন তাঁরা এসইও তে সাকসেসফুল পারসোন।

যারা শুধু মনে মনেই পারেন বা যারা একেবারেই জানেন না, তাঁরা কিভাবে এসইও এক্সপার্ট হতে পারবেন, সে বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করব।

মনে মনে এসইও পারেন যারা , তাঁরা হয় কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসইও এর কোর্স করেছেন আর না হয় এসইও নিয়ে ভিডিও+আর্টিকেল পড়েছেন। আর ভাবছেন আপনি এসইও তে এক্সপার্ট।

দেখুন, যখন একজন ড্রাইবার ড্রাইবিং শিখে ২/৩ মাস ধরে। ড্রাইবিং শিখার পরে সে যদি ড্রাইবিংটা আর প্র্যাকটিস না করে, সে কিন্তু ভালো ড্রাইবার না বা সে এক সময় যা শিখেছে তা ভুলে যাবে। আর যদি প্র্যাকটিস থাকে তাহলে কিন্তু সে একটা সময় খুব ভালো ড্রাইবার হিসেবে পরিচিত হয়ে যাবে।

এসইও ব্যাপারটা তেমনি। আপনি আর্টিকেল+ভিডিও দেখে দেখে শুধু সিস্টেম গুলো জানলেই হবেনা। সিস্টেম গুলোকে কাজে রুপান্তরিত করতে হবে।

আর যারা এই কাজটুকু প্র্যাকটিস করবে তারাই একদিন এসইও এক্সপার্ট হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করতে পারবে।

আপনি যখন মনে করবেন যে, এসইও পারেন বাট কাজ পাচ্ছেন না। তখন আপনাকে মনে করে নিতে হবে আপনি এখনো এসইও তেমন একটা শিখতে পারেননি।

মনের সাথে কথা বলে দেখুন, আমরা কাজ পেতে যতটা না আগ্রহী,আমাদের স্কিল কিন্তু সেই পর্যায়ের না। আর তাই আমরা কাজ পাইনা।

অনেক ভুমিকা করলাম যেন আপনি বুঝতে পারেন। চলুন এবার আসল কথায় প্রবেশ করি

আপনি কিভাবে একজন এসইও এক্সপার্ট হবেন?

 প্রথমে ধরে নিচ্ছি আপনি এসইও কি জানেন না। আচ্ছা আমি বলে দিচ্ছি অল্প কথায় – এসইও হলো এমন একটি সিস্টেম, যেই সিস্টেম ফলো করে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেইজে নিয়ে আসা। গুগল সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে যেমন – বিং,ইয়াহু ইত্যাদি।

এখন আমি ধরে নিচ্ছি আপনি এসইও কি এটা অনেক আগ থেকেই হয়তো জানেন। আপনি যদি ২০১২/১৩/১৪ সালের এসইও টিপস গুলো জেনে বসে থাকেন, তাহলে কিন্তু ২০২০ তে এসে আপনি কোনভাবেই সেই আগের নলেজ দিয়ে ওয়েবসাইট কে রেঙ্ক করাতে পারবেন না।

সব কিছুই আপডেট হচ্ছে,আপনার নলেজকেও আপডেট রাখতে হবে। এসইও প্রতিনিয়তি প্র্যাকটিসের ব্যাপার।

কোন এককালে শিখে ঘুমিয়ে থাকবেন, আর হঠাৎ ঘুম ভেঙে মনে হবে এখন কাজে নেমে পড়ি, আমি তো জানিই কিভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে কিন্তু হবেনা। আপডেট নলেজ গুলোও শিখে নিতে হবে এবং প্রাকটিস করে যেতে হবে।

ইউটিউব এসইও কিভাবে করবেন? বিস্তারিত এখানে…

এপ্লাই করার দিক দিয়ে এসইও কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে ঃ

  • সাদা টুপি বা হোয়াইট হ্যাট এসইও ।
  • গ্রে হ্যাট এসইও বা ধূসর টুপি এসইও।
  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বা কালো টুপি এসইও।

সাদা টুপি – হলো গুগলের নিয়ম কানুন মেনে যেই সিস্টেমে এসইও করা হয়ে থাকে তাকে সাদা টুপি এসইও বা হোয়াইট হ্যাট এসইও বলা হয়ে থাকে।

গ্রে হ্যাট এসইও – গুগলের কিছু গাইডলাইন মানা আর কিছু না মেনে যে সিস্টেমে এসইও করা হয়ে থাকে তাকে বলা হয় গ্রে হ্যাট এসইও বা ধূসর টুপি এসইও।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও – গুগলের কোন রূলস না মেনে সে সিস্টেমে এসইও কে প্র্যাকটিস করা হয়ে থাকে সেই সিস্টেমকে বলা হয়ে থাকে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বা কালো টুপি এসইও।

মৌলিক ভাবে এসইও কে আবার দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিভাজন হবে ঃ

  • পেইড এসইও।
  • অরগানিক এসইও।

 পেইড এসইও নিয়ে আমরা আলোচনা করবোনা। কারন পেইড এসইও হলো – আপনি আপনার ওয়েব সাইট কে গুগলের প্রথম পেইজে রেঙ্ক করানোর জন্য গুগল কে ডলার পে করবেন, গুগল আপনার সাইট কে প্রথম পেইজে সো করাবে।

অরগানিক এসইও নিয়েই যত কাজ। অরগানিক এসইও কে আবার দুটি ভাবে ভাগ করা হয়েছে ঃ

  1. অন পেইজ এসইও।
  2. অফ পেইজ এসইও।

অন পেইজ এসইও – যে কাজ গুলো আপনি আপনার ওয়েবসাইট রেডি হয়ে যাওয়ার পরে করে থাকেন, অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটকে রেডি অবস্থায় গুগলে রেঙ্ক করানোর জন্য যে কাজ গুলো করা হয়ে থাকে,  তাকে অন পেইজ এসইও বলা হয়ে থাকে।

যেমন – আপনার ওয়েবসাইটে নতুন নতুন কনটেন্ট আপলোড দেওয়া, সাইটের লোডিং স্প্রিড বাড়ানো, সাইটের Url সুন্দর করে কাস্টোমাইজ করা ইত্যাদি।

অফ পেইজ এসইও – যেই কাজ গুলো করা হয়ে থাকে আপনার সাইটের বাহিরে থেকে। সেগুলোকে অফ পেইজ এসইও এর কাতারে ফেলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে কিছু হলো, আপনার সাইট কে আপনার সাইট রিলেটেড অন্য একটি সাইটের সাথে রিঙ্কআপ করানো, আপনার সাইট নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা ইত্যাদি।

একজন ভালো মানের এসইও এক্সপার্ট হতে চাইলে আমি উপরে যে কথা গুলো বলেছি এগুলো সঠিক ভাবে করে যেতে হবে এবং নিজেকে এক্সপার্ট হিসেবে প্রমান করতে হবে।

উপরের কাজ গুলো করা এক দুইদিনের ব্যাপার না, এখানে আপনাকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে, প্রয়জনে অর্থ ব্যয় করতে হবে এবং এনালাইসিস করার মন মানশিকতা থাকতে হবে। তাহলেই আপনি সাকসেস হতে পারবেন।

তবে পজিটিব ব্যাপার হল ঃ

আপন যদি উপরের কাজ গুলো করে নিজেকে ভালো মানের এসইও এক্সপার্ট হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন। তাহলে আপনার কাজ পেতে সমস্যা হবে না আর কাজেরও অভাব হবেনা।

আপনি জানেন কিনা জানিনা, একজন ভালো মানের এসইও এক্সপার্ট এর মাসিক বেতন ১০০০ ডলার থেকে ২০/৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

অতএব আপনাকে বলছি, আপনিও এসইও তে এক্সপার্ট হয়ে যান, আপনার কাজের আর অভাব হবেনা।

আচ্ছা কথা বলতে বলতে অনেক দূর চলে এসেছে আর অনেক কথাও বলেছি। এবার আবার আমরা আগের টপিকে চলে যাই,  কিভাবে আপনি এসইও এক্সপার্ট হবেন তাই না ?

আমার আপনাকে দেওয়ার মত সবচেয়ে ভালো সাজেশন হলো ঃ

প্রচুর ভালো মানের ব্লক পড়া। আমি জানি আমরা এখন ভিডিও বেশি দেখি বা ভিডিও তে সব কিছু শিখার চেষ্টা করি, কারন ভিডিও তে সবকিছু অনেক সহজ ভাবে বুঝা যায়।

কিন্তু আর্টিকেল বা ব্লগে যে পরিমানের ইনফরমেশন আপনি পাবেন সে পরিমানের ইনফরমেশন কিন্তু ভিডিওতে পাবেন না।

তাই আপনার জন্য আমার সাজেশন হলো, প্রচুর পরিমানের আর্টিকেল বা ব্লগ পড়বেন। যারা এসইও শিখতে চায় তাদের কে আমি নিচে দেওয়া সাইট গুলোর আর্টিকেল পড়তে বলি।

আপনাকেও বলছি নিচে দেওয়া সাইটের আর্টিকেল গুলো পড়বেন। অনেক কিছু শিখতে পারবেন। সাইটের নাম গুলো হলো –

আমি কি খারাপ? উপরের প্রতিটা ব্লগ সাইট ইংরেজি কনটেন্ট কে সাজেষ্ট করলাম, নিজের ভাষার প্রতি কি অবিচার করলাম? সত্যি বলতে এসইও নিয়ে বাংলায় খুব ভাল ব্লগ সাইট আমি খুঁজে পাইনি। আপনি যদি পেয়ে থাকেন আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। আমি অবশ্যই এড করে দিব।

এবার আসি আসল কথায় ঃ

আমি জানি আমার এই আর্টিকেল টি যদি ২০০০ জন মানুষ পড়ে থাকে তার মধ্যে ১০% মানুষ উপরে দেওয়া সাইট গুলো গুগল করবে এবং সর্বোচ্ছ ৫-১০ জন্য এই সাইট গুলো ঘাটাঘাটি করে আর্টিকেল গুলো পড়বে।

আর এই কাজ গুলো যারা করবে সেই মানুষ গুলোই আগামিতে এসইও ইন্ড্রাষ্টি শাসন করবে। আর আমি চাই আপনিও সেই মানুষ গুলোর মাধ্যে যে কোন একজন হয়ে যান।

এখন আরো কিছু গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট হলো, আপনি তো অনেক আর্টিকেল পড়লেন + অনেক ভিডিও দেখলেন। বাট কাজ গুলো প্র্যাকটিস করলেন না , তাহলে কোন কিছুই শিখা হলোনা।

প্র্যাকটিস না করলে আপনার দুইটা ক্ষতি বেশি হবে –

০১, আপনি যা যা শিখলেন তার মধ্যে ভুলগুলি ধরতে পারবেন না।

০২, আপনি শুধু শিখেই গেলেন বাট পরিবর্তিতে প্র্যাকটিস করতে পারবেন না যদি সাথে সাথে প্র্যাকটিস না করেন।

অন্য আরেনকটি বড় ক্ষতি হবে,  আপনি যখন কোন কর্ম ক্ষেত্রে যাবেন আর কোন ক্লাইন্ট আপনাকে প্রশ্ন করবে আপনি এত দিন কি কি কাজ করছেন একটু সামারি করেন।

তখন কিন্তু আপনি বলতে পারবেন না যে, আপনি অমুক আর্টিকেল পড়েছেন,অমুক ভিডিও দেখেছেন।

আপনাকে কিন্তু তখন বলতে হবে যে, দেখো আমি এই কিওয়ার্ডটিকে এই পদ্ধতিতে রিসার্চ করেছি এবং গুগলের প্রথম পেইজে রেঙ্ক করেছি। আর এটাই হবে আপনার জন্য সাকসেসফুল এসইও এক্সপার্ট হওয়ার প্রামাণ।

অনেক কথা বলেছি। এখন আমি পুরো আর্টিকেল টিকে একটু সামারি করে যদি বলে দেই। তাহলে সেটা হবে ঃ

সিস্টেম ০১,  প্রচুর পরিমানের ব্লগ পড়া + টিউটোরিয়াল দেখা।

সিস্টেম ০২,  একটি সাইট বানিয়ে প্র্যাকটিস করে যাওয়া যতক্ষন না সাইট টিকে গুগলের প্রথম পেইজে রেঙ্ক করাতে না পারছেন।

কাজ কিন্তু এই দুই সিস্টেমেই করে যেতে হবে। আর তেমন কিছুই করতে হবেনা। আপনি যদি আসলেই এসইও দুনিয়ার নিজেকে প্রমান করতে চান তাহলে আমার আর্টিকেলের কথা মত কাজ গুলো করে যাবেন। আমি বিশ্বাস করি কাজ গুলো সঠিক ভাবে করে যেতে পারলে, আপনিও একদিন এসইও এক্সপার্ট হিসেবে এই ইনড্রাষ্টিকে খুব ভালো ভাবেই শাসন করতে পারবেন।

আজ এই পর্যন্তই। কথা হবে অন্য কোন আর্টিকেলে। ভালো লাগলে আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে শেয়ার করবেন। প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ !!

Kawkab Nadim

আস সালামু আলাইকুম! আমি কাওকাব নাদিম! কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে জোর করে অনার্স করেছি ☹️। যদিও আমি একজন ইঞ্জিনিয়ারিং রিলেটেড পারসোন, তবুও অনলাইন মার্কেটিং এবং টেকনোলজি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে আমার মন থেকে ভালোলাগা কাজ করে ❤️ এখানে ঘাটাঘাটি বলতেই আমার কাছে সত্যিকারের পড়াশুনা 🙂 মাঝে মধ্যে আমার বিভিন্ন টপিকে আর্টিকেল লিখতে ভালো লাগে, আর সেই ভালো লাগা থেকেই আমার এই পারসোনাল ওয়েবসাইট। আমার আর্টিকেল গুলো আপনাদের ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করে জানিয়ে দিতে ভুলবেন না। নিজেকে নিয়ে আর তেল দেওয়ার কিছুই নাই 😉 আমার সাথে কানেক্ট থাকতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ!

This Post Has 13 Comments

  1. Dhanik

    love you vhai… very impressive article

    1. Kawkab Nadim

      সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

  2. Anup Deb Nath

    নিঃসন্দেহে একটি ভালো আর্টিকেল । তবে বানানের দিকে আরেকটু মনযোগ দিবেন । হয়তো বা দ্রুত লিখতে গিয়ে অনেক সময় এটি হতে পারে ।
    শুভ কামনা রইলো ।
    <3

    1. Kawkab Nadim

      জ্বি ভুল হতেই পারে। আপনার মতামত অনুযায়ী আমি ভুল গুলো দেখার ট্রাই করব। ধন্যবাদ আপনাকে!

  3. farhan

    অসাধারণ পোস্ট। শেখার অনেক কিছু আছে। ধন্যবাদ।

  4. Sri Ponkoj deb nath

    Thanks for your proper guidelines

  5. Aliful Islam Remon

    Thanks for your guideline

  6. Arif

    thank you somuch brother I have searching likethis articl.

Leave a Reply