স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি কি? বিস্তারিত জানুন।

0
748
স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি

আজকের আর্টিকেলের টপিক – স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি বলতে কি বুঝানো হয়েছে? আমি আমার ওয়েবসাইট Kawkabnadim.info তে এই পর্যন্ত যত গুলো আর্টিকেল পোস্ট করেছি, এর মধ্যে আজকের এই আর্টিকেলটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি ভুলেও আমার এই লেখাটিতে ক্লিক করে চলে আসেন, তাহলে বলবো পুরো আর্টিকেল পড়েন। আজকের এই ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলা অনেক বেশি জরুরী। তো, চলুন শুরু করি।

আমরা যদি পুরো ইকোনমি সিস্টেমকে দুই ভাগে ভাগ করে নেই, এর এক ভাগে হলো, যারা ব্রেন দিয়ে কাজ করে। সাধারণত যারা ব্রেন দিয়ে কাজ করে তাদের ভেলু একটু বেশিই, আর তাদের ইনকাম রেশিও বেশি হয়ে থাকে।

আর অন্য ভাগে আমরা যাদের রাখবো, তারা হলো সাধারণ মাপের কর্মী। দ্বিত্বীয় ভাগে যারা আছে, তাদের কাজ মূলত – ব্রেন দিয়ে উপরের লেভেল ম্যানেজমেন্টরা যেই যেই প্ল্যান গুলো তৈরি করে, তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ণে রুপ দেওয়া।

কনটেন্ট রাইটার হিসেবে অনলাইনে কাজ করুণ – বিস্তারিত এখানে…

স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি – একটু উদাহারণ দিয়ে বলি

একটা ইকোনমি সিস্টেমে যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিয়ার, ডেভেলপার থাকে, ঠিক একেই ভাবে সেইম ইকোনমির মধ্যে কিন্তু রিকশাওয়ালা বা গার্মেন্টস কর্মীও বিদ্যমান। আমরা বাস্তব চোখে তাকালে দেখি – ডাক্তার, ইঞ্জিয়ারদের তুলনায় খেটে খাওয়া গার্মেন্টস কর্মী, রিকশাওয়ালারা খুব বেশি পরিশ্রম করে থাকে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধারে কাজ করে দিন শেষে পারিশ্রমিক ডাক্তার বা ইঞ্জিয়ারদের তুলনায় অনেক কম। শুধু যে পারিশ্রমিক কম ব্যাপারটা এমননা।

একজন রিকশাওয়ালা দুই তিন বছর কাজ করলেও তাদের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন তেমন করতে পারেনা, যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার সময়ের সাথে সাথে তাদের বর্তমান অবস্থা অনেক বেশি ডেভেলপ করতে পারে। অন্য দিকে সাধারণ খেটে খাওয়া গার্মেন্টস কর্মীরা যেখানে আছে সেখানেই থেকে যাচ্ছে।

এর ব্যাসিক কারন কি?

সেই ছোট বেলা থেকে একটা কথা শুনে আসছি এবং মাঝেমাঝে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বলেও আসতেছি, সেটা হলো-পরিশ্রম সাফল্যের চাবি কাঠি। এই কথাটা যদি ভুল না হয় তাহলে তো রিকশাওয়া বা গার্মেন্টস কর্মীদের যে পরিশ্রম হয়, সে জন্য তাদের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন তেমন হচ্ছেনা কেন?

আসলে ছোটবেলায় শুনে আসা বা বলে আসা পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি কথাটা ভুল না। তবে এখানে কিছু টেকনেক্যাল ব্যাপার লুকিয়ে আছে।

অনলাইনে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো কি কি? বিস্তারিত এখান থেকে জানুন

ব্যাপারটা আসলে কি?

আমাদের মাথায় একটা সাধারণ প্রোগ্রাম সেট করা আছে, সেটা হলো – আমরা বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, একটা কাজ যদি প্রতিদিন করতে থাকি, আর টানা করতে থাকি তাহলে একদিন স্বাবলম্বী হবো এবং আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য একটা সময় অনেক ভাল হবে।

আসলে কি ব্যাপারটা এমন? কখনোই এমন না, আপনি একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারকে বর্তমান অবস্থায় যেভাবে দেখবেন, আগামী ৪/৫ বছর পরে একই অবস্থায় দেখবেন না, আগের থেকে তাদের অবস্থায় উন্নতি হয়েছে এটাই দেখবেন।

ঠিক একই ভাবে একজন রিকশাওয়ালা বা গার্মেন্টস কর্মীকে বর্তমানে যে অবস্থায় দেখবেন, আগামী ৪/৫ বছর পরে সেইম অবস্থায় দেখার সম্ভাবনাই বেশি।

এর কারন কি?

জটিক কোন কারন নেই এখনে। এর কারণ হল, ডেভেলপমেন্ট মেন্টালিটির অভাব। এই মেন্টালিটি ডেভেলপমেন্ট এর চিন্তা একজন সাধারণ রিকশাওয়ালার থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক।

এন্ট্রেপ্রেনেউরিয়াল বা ডেভেলপমেন্ট মেন্টালিটি একজন রিকশাওয়ালার থাকলে কি উন্নতি করা সম্ভব?

একজন রিকশাওয়ালার গল্প বললে খুব ভালভাবে বুঝবেন। রিকশাওয়ালা একজন ফরিদপুরের বাসিন্দা। ২০০ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় আসেন। কোন এক গ্যারেজ থেকে রিক্সা ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করেন।

পুরোদিন রিক্সা চালিয়ে গড়ে ৫০০ টাকা করে পেতেন, এর মধ্যে থেকে ২৫০ টাকা মালিকতে দিতেন আর বাকি থাকত ২৫০ টাকা। যেখানে অন্য রিকশাওয়ালারা তাদের পুরো ইনকাম হয় গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতো, আর না হয় নেশা করে খরচ করে ফেলত। সেই জায়গায় উনি ২৫০ থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা জমানো শুরু করে। এর জন্য দুই বেলার জায়গায় এক বেলা খেতো।

এভাবে এক মাস পরে উনার কাছে ৩০০০ হাজার টাকা জমা হয়। ২ মাস পরে ৬০০০ হাজার। এভাবে উনি ৬০০০ হাজার টাকা দিয়ে একটা রিক্সা কিনে নেয়। তারপর সেই রিক্সা ভাড়ায় দিয়ে দেয়।

সেখান থেকে উনি প্রতিদিন বিনা পরিশ্রমে ২৫০ টাকা করে পাচ্ছে। উনার জায়গায় অন্য কেউ হলে বসে বসেই কাটিয়ে দিত। উনি সেইম প্রসেস টা রানিং রাখল। দুই মাস পরে আরো একটা রিক্সা কিনে ভাড়া দিয়ে দিল।

এভাবে যখন উনার প্রসেস টা চলতে লাগল। একটা সময় উনি অনেক গুলো রিক্সার মালিক। আর সত্যি বলতে উনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিক্সা মালিক সমিতির প্রধান। ঢাকায় এখন উনার বাড়িও আছে।

উনি যদি রিক্সা চালনোর স্কিল দিয়ে জীবন যাপনের চেষ্টা করে যেত, তাহলে কি মরে যেতেন না। কিন্তু উনার বর্তমান অবস্থায় কোন উন্নতি হতোনা যদি স্বাভাবিক রিকশাওয়ালাদের মতন যা ইনকাম করে তা আবার সাথে সাথে খরচ করে ফেলত।

আর এই ব্যাপার টাই স্কিল ড্রেভেন ইকোনমির ম্যাজিক। শুরুতে উনি লেবার ড্রিভেন ইকোনমি তে পরিশ্রমি একজন কর্মী ছিল। তারপর উনি ডেভেলপমেন্ট ম্যান্টালিটি নিয়ে চলে আসলো স্কিল ড্রিভেন ইকোনমি তে।

উপরের এই উদাহারণ টি স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি এর খুব সুন্দর একটু বাস্তব চিত্র।

আমার এই আর্টিকেলটি যারা পড়ছেন, তারা সবাই ইন্টারনেটে নিজেদের ক্যারিয়ারকে খুব ভাল একটা পজিশনে দাঁড় করাতে চাচ্ছেন বা অনেকেই হয়তো অলরেডি এই কাজে সফল।

আমি এই ইন্টারনেটের সাথে গত দুই বছর যাবৎ জড়িত আছি। আর এই অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, আপনাদের অনেকেই এখনো ডাটা ইন্ট্রি, ক্লিক, ক্যাপচা পুরূণ, চ্যাম্পক্যাশ-এই টাইপের কিছু ফালতু ধান্দাবাজি স্কিল বিহীন বিষয়ক ইকোনমির দিকে সময় গুলো নষ্ট করছেন।

তাই আবারো বলছি, আপনাকে পুরো ব্যাপারটা ভাবতে হবে একজন চিন্তাশীল উদ্যোক্তার মত করে। আপনাকে এমন একটা পজিটিব স্কিল খুব ভাল ভাবে শিখে নিতে হবে যেটাকে আগামী ৪/৫ বছর পরে একটা ব্যাবসায় কনভার্ট করতে পারেন।

উদাহারণ স্বরুপ যদি বলি

আপনি খুব ভালভাবে এসইও ইন্ড্রাস্টিতে পরিশ্রম করার ফলে একটা সময় একজন এসইও স্পেশালিষ্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেন। আপনার যদি ডেভেলপমেন্ট মেন্টালিটি থেকে থাকে, তাহলে আগামী ৪/৫ বছর পরে এসইও নলেজকে কাজে লাগিয়ে অনেক দূর যেতে পারবেন এটাই সত্যি।

স্কিল লেভেলকে এক জায়গায় থামিয়ে রাখবেন না, তাহলে লেবার ড্রিভেন ইকোনমি তে চলে যাবেন। স্কিল ড্রিভেন ইকোনমিতে থাকতে চাইলে আপনার স্কিল বাড়ানোর দিকে সবসময় মনোযোগি হতে হবে।

একটা কথা আমরা মাঝেমাঝে বলে থাকি, টিকে থাকা মানেই স্বার্থকতা না, এর মানে হলো রিকশাওয়ালারা কিন্তু পরিশ্রম করে টিকে আছে, এর মানে কি স্বার্থকতা হলো?

কখনোই না, আপনি যদি আপনার বর্তমান অবস্থায় উন্নতি নাই করতে পারেন তাহলে সেটাকে স্বার্থকতা বলা হয়না। মানুষ বিভিন্ন ভাবে টিকে থাকবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, এটাই বাস্তব। বাট স্বার্থকতা পেতে হলে প্রতিনিয়ত স্কিল ডেভেলপ করে এগিয়ে যেতে হবে।

তাই আপনাদের মাঝে যারা ডাটা ইন্ট্রি, ক্যাপচা পূরণ এসব করে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা হায়েস্ট আয়ের জন্য অনলাইনে আসতে চায়, তাদেরকে রিকশাওয়ালা বা গার্মেন্টস কর্মীর সাথে তুলনা করলে অপরাধ হবেনা।

এভাবে নিজেদের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারবে নে, কারন তারা পজিটিবলি আসল ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছেন না। তারা যা করছেন তা হল, লেবার এর মত সাধারণ চিন্তা ভাবনা। আপনি তো লেবার না। আপনাকে একজন স্কিল ফুল মানুষ হতে হবে।

তাই সব সময় স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি নিয়ে চিন্তা করে কাজ করবেন, এতে অনেক পজিটিভ রেজাল্ট অবশ্যই পাবেন। চিন্তা হীন ভাবে কোন কাজেই হাত দেওয়া উচিৎ না।

আর্টিকেল কনসেপ্ট – Passive Journal Universicy

FAQ

আর এই ভাবেই ডেভেলপমেন্ট মেন্টালিটি নিয়ে যারা কাজ করে যায়, তাদের সফলতা সময়ের সাথে সাথে উন্নতি হতে থাকে। আজকের আর্টিকেল – স্কিল ড্রিভেন VS লেবার ড্রিভেন ইকোনমি টপিক টি এখানেই শেষ করলাম।

পরের আর্টিকেলের জন্য ওয়েবসাইট ফলো করুণ। আমি বিশ্বাস করি এই আর্টিকেলটি আপনাকে অনেক পজিটিব চিন্তাতে সহযোগিতা করবে। প্রশ্ন থাকলে করে ফেলুন। ধন্যবাদ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here