অনলাইন থেকে ইনকাম – সত্যিই কি সম্ভব? বিস্তারিত বাংলা ব্লগ।

0
1780
অনলাইন থেকে ইনকাম

আজকের আর্টিকেলের টপিক – অনলাইন থেকে ইনকাম! যদি আপনি ভুল করে আমার আর্টিকেল কি ক্লিক করেও থাকেন তবুও বলছি আর্টিকেলটি পড়েন। আশা করছি আপনাদের উপকার হবে। চলুন শুরু করা যাক।

এই তথ্য-প্রযুক্তির যুকে আমরা সবাই এখন জানি অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। বরং অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়না এই কথাই এখন আর শুনা যায়না। তবে, যারা জানেন তাদের মধ্যে বেশির বাগই সঠিক গাইডলাইন পাননা। আবার যারা জানেন তাদের মাঝে অনেকেই ইনকাম করার সঠিক রাস্তা খুঁজে পাননা।

আমি চেষ্টা করব আমার এই পোস্টে কিছু স্বচ্ছ ধারনা দেওয়ার। আপনারা পুরো পোস্টটি পড়লে কিছুটা হলেও বুঝলে পারবেন যে অনলাইন থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায়।

ইউটিউব এসইও কিভাবে করবেন? Info Here…

অনলাইন থেকে ইনকাম করার কিছু উপায় নিচে পয়েন্ট আকারে দেখানো হলো –

  • PTC সাইট
  • YouTube থেকে আর্ন
  • Website থেকে আর্ন

#01_PTC সাইট

আমার অনলাইন জার্নি শুরু হয় এই PTC সাইট গুলো দেখেই। ২০১৬ সালের ১৮ ই মার্চ হঠাৎ ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গিয়ে ptc সাইটের একটি সাইট আমার চোখে পড়ে।

আমার এখন মনে নেই তখন আসলে কোণ সাইট তি প্রথমে আমার চোখে পড়েছিলো। তবে প্রথম কবে পিটিসি সাইট নিয়ে জেনেছি সেটা কিন্তু মনে আছে আর সেটা উপরে আগেই বলেছি।

প্রথম একাউন্ট করা পিটিসি সাইটের নাম মনে না থাকার কারন হলো কত গুলো পিটিসি সাইটে যে আমি একাউন্ট করেহছিলাম আমি গুনে শেষ করতে পারবোনা।

আর সত্যি বলতে পিটিসি সাইটে আমি আর্নিং এর প্রথম দাপ বলবোনা। কারন পিটিসি সাইট আসলেইন আর্নিং এর সঠিক মাধ্যম না । সময় নষ্ট করার মাধ্যম ছাড়া আমার কাছে আর তেমন কিছুই মনে হয়না।

তবে এই পিটিসি সাইট থেকেই অনলাইনে আর্নিং করার ইচ্ছেটা শুরু। পরে আস্তে আস্তে অনেক কিছুই জানা হয় এবং শেখা হয়।

ভিডিও এর মাধ্যমে ইনকাম করুন – Info Here…

#_02YouTube থেকে আর্ন

পিটিসি এর ক্লিক এর যন্ত্রণা বাদ দিয়ে আমি ইউটিউব নিয়ে জানার চেষ্টা করি। কত গুলো ভিডিও যে আমি দেখেছি ইউটিউব নিয়ে জানার জন্য তা বলে শেষ করা সম্ভব না।

২০১৬ সালের দিকে আজকের মত এত কঠিন নিয়ম ছিলোওনা। ভিডিও মেক করে আপলোড দিলেই মনিটাইজেশন অন করলে অন হয়ে যেতো। ইউটিউব এখন আগের মত এত সহজ না।

সামনের আরো কঠন হবে এবং যারা সত্যিই ভালো কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে যায় তাদের জন্য ইউটিউবের এই কঠিন নিয়ম গুলো পজিটিব দিক হিসেবে কাজ করবে।

সো সত্যিকারের ইউটিউবারদের চিন্তার কারন নেই। চিন্তা হলো স্কেমার দের জন্য , যারা অন্যের ভিডিও নিজের নামে আপলোড দিয়ে আসতেছিলো।

আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন ইউটিউব থেকে সত্যিই আর্ন করা যায়?

আমি বলবো হ্যা, ১০০% ইউটিউব থেকে আর্ন করা আয়। আমি কিছু ইউটিউবাদের ইনফরমেশন এখানে আপনার সাথে শেয়ার করছি , যারা ইউটিউবে সাকসেসফুল পারসোন –

PewDiePie ঃ

আমি যখন পোস্টটি লিখতেছি এই মুহূর্তে ৬১ মিলিয়ন সাবসক্রাইবার নিয়ে পিওডিপাই এক নাম্বার ইউটিউবার। যার প্রতি মাসে এস্টিমেটেড আর্নিং আসে ৩২হাজার ডিলার থেকে ৫০০ হাজার ডলার পর্যন্ত। আর বছরে আর্নিং আসে – ৪০০হাজার ডলার থেকে ৬মিলিওন ডলার পর্যন্ত। আশাকরি বুঝতেই পারছেন কি পরিমান ইনকাম শুধু মাত্র ইউটিউব প্লাটফর্ম থেকেই। পিওডিপাই গেইমিং ভিডিও নিয়ে এত বিখ্যাত।

HolaSoyGerman ঃ

৩৩ মিলিওন সাবস্ক্রাইবার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হোলাসওজারমান। যার মাসিক এস্টিমেটেড আর্নিং হলো – ৯হাজার ডলার থেকে ১৪০হাজার ডলার । এবং বছরে এর পরিমান হয় – ১০৬হাজার ডলার থেকে ১.৭মিলিওন ডলার। হোলাসোজারমান ফানি ভিডিও মেকার হিসেবে বিখ্যাত।

elrubiusOMG ঃ

২৭ মিলিওন সাবস্ক্রাইবার নিয়ে ৩ নাম্বারে অবস্থান করছে elrubiusOMG। এর মসিক ইস্টিমেটেড ইনকাম অলো ১৮ হাজার ডলার হতে ৩০০ হাজার ডলার পর্যন্ত। এবং বছরে এর পরিমান হয় – ২১৮ হাজার ডলাত থেকে ৩ মিলিওন ডলার পর্যন্ত। এই চ্যানেল টিও ফানি ভিডিওর জন্য বিখ্যাত।

উপরে আমি ৩ টি চ্যানেল নিয়ে অল্প কিছু কথা বলেছি । এর মধ্যে দেখা গেছে ২ টা চ্যানেল ফানি কনটেন্ট আর একটি চ্যানেল গেইমিং কন্টেন্ট এর জন্য বিখ্যাত।

এখন বলতে পারেন অন্য কোন টপিক নিয়ে কনটেন্ট দিলে কি ইনকাম হবেনা? ১০০% হবে । আমি হজারটা কেটাগরির চ্যানেল দেখাতে পারবো যারা ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে খুব ভালো ইনকাম জেনারেট করতে পারে। আপনি যেই কাজে ভালো সেই রিলেটেড নিশ নিয়েই কাজ করবেন তাহলে আপনার কাজ করতেও সহজ হবে এবং খুব সহজেই সাকসেস আসবে।

YouTube এ কিভাবে কাজ শুরু করা উচিৎ?

ইউটিউবে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই কিছু পারটুকুলার নলেজ আপনার থাকতেই হবে। আমি খুব গুরুত্বপূর্ন কিছু পারটুকুলার নলেজ সম্পর্কে জানিয়ে রাখছি –

ভিডিও এডিটিং জানতে হবে ঃ

ভিডিও এডিটিং জানতে হবে বলে আমি আপনাকে প্রফেশলা ভিডিও এডিটর হতে বলছিনা। মোটামুটি নলেজ থাকলেই হবে। সহজভাবে কিভাবে একটি ভিডিও এডিট করে রিপ্রেজেন্ট করতে হয় এই নিয়ে হজারটা রিসোর্চ আপনি ভিডিও আকারে ইউটিউবে পেয়ে যাবেন।

মোটামুটি মানের ভিডিও এডিটরের কাজ শিখতে আপনার ১ সাপ্তার বেশি লাগবেনা যদি আপনি সত্যিই মনোযোগ দিয়ে শিখেন। প্রাথমিক এবং মোটামুটি প্রফেশনাল ভাবে ভিডিও এডিট করার জন্য যে সফটওয়্যার টি ৭০% উইন্ডোস ইউজাররা ব্যাবহার করে থাকেন সেটা হলো Camtasia । বিভিন্ন টরেন্ট সাইট থেকে আপনারা এই সফটওয়্যার টি খুব সহজেই নামিয়ে নিতে পারবেন।

যে কোন একটা পারটুকুলার বিষয়ে আপনার দক্ষ হতে হবে ঃ

আপনি কিসের ভিডিও বানাবে ? আপনাকেই সেটা ঠিক করে নিতে হবে। ইউটিউব আপনার কাছে রিয়েল কনটেন্ট চায় , অন্যের কনটেন্ট ডাউওনলোড করে নিজের নামে দিয়ে দিলে কোন লাভ হবেনা। তাই আপনাকে যে কোন একটা বিষয়ে দক্ষ থাকতে হবে। যে বিষয়ের ভিডিও বানিয়ে আপনি মানুষের সামনে ভিডিও আকারে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবেন।

মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে ঃ

ইউটিউবে কাজ করতে হলে আপনাকে প্রথম দিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। এক সাপ্তাহ কাজ করার পরেই কিন্তু ডলার আসা শুরু করবেনা। ৪/৫ মাস প্রচুর পরিশ্রম করার পরে আস্তে আস্তে ইনকাম জেনারেট হতে শুরু করবে।

পিওডিপাই কিন্তু আজকের এই জায়গায় এক সম্পাহ কষ্ট করে চলে আসেনাই। পিওডিপাই প্রচুর গেইম খেলতো। সে তার সেই গেইম খেলার কিছু কিছু মুহূর্ত ভিডিও আকারে ইউটিউবে আপলোড দিতো।

আর এভাবেই আপলোড দিয়ে আসতে আসতে আজকের পিওডিপাই এই অবস্থানে। পিওডিপাই তার কাজ গুলো ফ্যাশন(মজা করে) মনে করেই করত বলেই আজ সে সাকসেস। জোর করে কোন কিছু অর্জন করা যায়না ।

যদিও যায় সেই অর্জনে কোন সুখ থাকেনা। তাই আপনাকে প্রথমে মাউন্ড সেট ঠিক করতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে।

রেগুলার ভিডিও আপলোড দিয়ে যেতে হবে ঃ

কাজ শুরু করার পরে রেগুলার আপনাকে ভিডিও আপলোড দিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি সপ্তায় একটি ভিডিও আপলোড দিতে পারবেন বলে মনে করেন তাহলে আপনাকে প্রতি সম্পায় একটি করে ভিডিও আপলোড দিয়ে যেতে হবে যদি আপনি সাকসেস হতে চান। ইউটিউব রেগুলারিটি পছন্দ করে রেংকিং এর ক্ষেত্রে।

উপরের এই চারটি বিষয় মেনে কাজ করে যেতে পারলে আপনিও একদিন ভালোমানের ইউটিউবার হতে পারবেন। কষ্ট কখনো বিপলে যায়না !!

#_03 Website থেকে আর্ন

ইন্টারনেটের এই যুগে আর্নিং এর হাজারটা উপায় আছে। এর মধ্যে ওয়েসবাইট থেকেও আর্ন করা যায়। ওয়েবসাইট থেকে এখন প্রচুর মানুষ আর্নিং করছে।

কেউ নিজের পারসোনাল ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে পোস্ট করার মাধ্যমে নিজের নলেজ শেয়ার করছে। আর এভাবেই ওয়েবসাইটে ট্রাফিক জেনারেট হতে থাকে এবং একটা সময় এই ট্রাফিকের মাধ্যমেই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম জেনারেট হয়।

সাপোস আপনার একটি পারসোনাল ওয়েবসাইট আছে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে টেকলোলজির বিভিন্ন টপিক নিয়ে খুব ভালো আর্টিকেল লিখে আপনার ওয়েবসাইটে পোস্ট করে থাকেন।

আপনার এই পোস্ট গুলো অনেকের কাছে ভালো লাগলো আর এভাবে আস্তে আস্তে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে লাগলো কারণ আপনার পোস্ট গুলো মানুষের উপকারে আসছে।

একটা সময় প্রচুর ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে আসতে শুরু করলো এবং আপনি তখন ইচ্ছে করলেই গুগল এডসেন্স আপনার ওয়েব সাইটের জন্য এলাও করে দিতে পারেন।

গুগল এডসেন্স এলাও হয়ে গেলে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এড দেওয়া শুরু করবে এবং সেই এড থেকে গুগল যা ইনকাম করবে তার ছোট একটা পারসেনটিস আপনাকেও দিবে। গুগলের ছোট পারসেনটিস টা মাস শেষে আপনার কাছে ভালো একটা এমাউন্ট হয়ে যাবে আর এভাবে আপনি নলেজ শেয়ার করার মাধ্যমে গুগল এডসেন্স থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন , এডসেন্স ছাড়া কি আর কোন ওয়ে আছে ? হ্যা , ১০০% আছে। আপনি যেহেতু টেকনোলজি নিয়ে অনেক আর্টিকেল দিয়ে অনেক ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসছেন বা আসতেছেন।

এখন আপনি ইচ্ছে করলে কোন টেকনোলজি রিলেটেড প্রডাক্ট রিভিউ করার মাধ্যমে আপনার ওয়েব সাইটে সেল দিতে পারবেন। আর আপনি যেই কম্পানির প্রোডাক্ট আপনি সেল দিবেন সেই কম্পানি থেকেও আপনি মোটামুটি ভালো মানের কমিশন জেনারেট করতে পারবেন।

এভাবে আপন একটি ওয়েবসাইট দিয়ে কয়েকভাবে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। আমি জাস্ট দুইটি মাধ্যমের কথা খুব অল্প কথায় বলার চেষ্টা করেছি। ওয়েব সাইট থেকে আর্ন কিভাবে করা যায় এই নিয়ে আমি কিছু ভিডিও রিসোর্চ আপনাদের নিচে দিয়ে দিলাম –

শেষ কথা ঃ

অনলাইন থেকে ইনকাম টপিকে আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করলাম। অনলাইন থেকে আরো অনেক উপায়ে আর্ন করা সম্ভব। আমি তিনটি মাধ্যমের কথা বলেছি।

তিনটির মধ্যে প্রথমটিতে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুইনা। বাকি দুইটি নিয়ে যদি কেউ পরিশ্রম করে যান তাহলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং ভালো পরিমান অর্থ আপনিও অনলাইন  থেকে উপার্জন করতে পারবেন।

একটা আর্টিকেলে সব উপায় নিয়ে বিস্তারিত লিখা সম্ভব না । সামনের আর্টিকেলে অন্য কোন ভালো টপিক নিয়ে আবার আসবো । সবাই ভালো থাকবেন । ধন্যবাদ !!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here