ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং বলতে কি বুঝায় – বিস্তারিত জানুন

0
1852
ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং

আমি মনে করে নিচ্ছি আপনি ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আর যদি ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে জেনে থাকেন তাহলে দুইটার মাঝে মেইন পার্থক্য কি ?

মেইন পার্থক্য বলার আগে আমরা আগে জেনে নেই ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং বলতে কি বুঝানো হয়ে থাকে।

অনলাইনে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো কি কি? বিস্তারিত এখানে।

ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং টপিকে – জেনে নেই ফ্রেলেন্সিং বলতে কি বুঝানো হয়!

আমি অনেকের মুখে শুনেছি ফ্রিলেন্সিং মানে মুক্ত পেশা। আচ্ছা এবার আমি আমার মত করে আপনাকে বুঝাচ্ছি – যে পেশায় অন্যের অধীনে কোন শর্তের উপর বিত্তি করে চাকরি করা নয়, কোন নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রতিনিয়ত নিদৃষ্ট একটা এমাউন্ট এর জন্য কাজ করাকে বুঝানো হয় না। এই ধরনের পেশাকে মুক্ত পেশা বলা যেতেই পারে।

অর্থাৎ আপনি আপনার ইচ্ছে মত কোন কাজ করে যদি ভালো কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারেন তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা সত্যিই অন্যরকম ভালো লাগে। আর এই ধরনের কাজ গুলোকেই ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশার কাজ বলা হয়ে থাকে।

ফ্রিলেন্সার হতে আপনাকে কি কি জানতে হবে?

খুব ভালো প্রশ্ন! ফ্রিলেন্সিং করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু পারটিকুলার বিষয়ের উপর ভালো মানের স্কিল থাকতে হবে। সেই পার্টিকুলার বিষয় কি কি হতে পারে –

  1. সফটওয়্যার ডেবেলোপার
  2. ওয়েব ডেবেলোপার
  3. এস ইউ স্পেশালিষ্ট
  4. ডিজাইনার
  5. কনটেন্ট রাইটার

সফটওয়্যার ডেবেলোপার

  • আপনি একজন সফটওয়্যার ডেবেলোপার হিসেবেও ফ্রিলেন্সিং করতে পারবেন। আপনি চাচ্ছেন না কোন আইটি কম্পানি জব করতে। আপনি চাচ্ছেন নিজের সময় মত কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে। তাহলে আপনি ফ্রেলেন্সিং করতে পারেন। সফটওয়্যার ডেবেলোপার এর মাঝে অনেক গুলো কেটাগরি আছে –
    • এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডেবেলোপার – আপনি আকজন এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডেবেলোপার হিসেবে ফ্রিলেন্সিং করতে পারেন।
    • iOS অ্যাপ ডেবেলোপার – iOS অ্যাপ ডেবেলোপার হিসেবে ফ্রিলেন্সিং করতে পারেন। এই ট্রাকে কাজ করতে হলে আপনাকে সত্যিই অনেক ভালো মানের ডেবেলোপার হয়ে কাজ করতে হবে। কারন এই টাইপের কাজ গুলোর বেলু অনেক বেশি। আপনি ভালো মানের ডেবেলোপার হতে পারলে আপনার জন্য এই ট্রেকে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সফটওয়্যার ডেবেলোপার ট্রেকে আরো অনেক ক্যাটাগরি আছে। আমি মাত্র দুইটা নিয়েই ধারনা দিলাম। এই দুইইটার যেকোন একটাতে আপনার যদি ভালো মানের স্কিল থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই ফ্রিলেন্সিং মার্কেট প্লেস গুলো থেকে কাজ নামাতে পারবেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ওয়েব ডেবেলোপার

সত্যি বলতে ওয়েব ডেবেলোপারের কাজের সংখ্যা অনেক বেশি। সামনে এই পরিমান কমবে নাকি আরো বাড়বে সেটা আপনিই বলুন। অবশ্যই বাড়বে,তবে কাজের ধরণের অনেক পরবর্তণ আসবে। এখন যেভাবে কাজ গুলো করা হয় সামনে হয়তো আরো সহজ এবং সুন্দর উপায়ে করা হবে। একটা সময় ওয়েসব সাইট বানানোর জন্য ডেবেলোপাররা HTML,CSS,PHP,JAVA SCRIPT এসবের উপরে সবচেয়ে বেশি নির্বর করে কাজ করত। এখন কি আগের মত এই স্কিল গুলোর উপর কাজ করা হয়? না, এখন আগের মত এই স্কিল গুলোর উপর কাজ করা হয়না, তবে এই স্কিল গুলোর বেলু কি কমে গেছে? কখনোই না! বললাম না কাজের ধরন গুলো শুধু পরবর্তন হচ্ছে। এখন এই স্কিল গুলো দিয়ে আপনি যদি ভালো মানের থিম বানাতে পারেন তাহলে আপনার কাজের অভাব হবেনা।

    1. থিম ডেবেলোপার – থিম ডেবেলোপার হতে পারলে আপনার কাজ খুঁজে পেতে সমস্যা হবেনা। বর্তমানে থিম ডেবেলোপারদের বেলু অনেক। ওয়ার্ডপ্রেস চলে আসার পর থেকে এই থিম ডেবেলোপারদের বেলু অনেক বেড়েছে। আর আপনি যদি একজন ভালো মানের থিম ডেবেলোপার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপানে ওয়েব ডেবেলোপার হতে যে যে স্কিল গুলো জানা দরকার ছিলো সেই স্কিল গুলো যদি আপনার জানা থেকে তাহলে আপনার জন্য থিম ডেবেলোপার হওয়া কঠিন কোন টপিক না। তাই আগেই বলেছি – HTML,CSS,PHP,JAVA SCRIPT এসব স্কিল এর বেলু কখনোই কমার মত না। কাজের সিস্টেম গুলো চেইঞ্জ হবে বাট স্কিল গুলোর গুরত্ব ঠিকই থেকে যাবে।
    2. ওয়েব এপলিকেশন ডেবেলোপার – এই ট্রেকে কাজ করতে হলেও আপনাকে ওয়েবডেবেলোপারের স্কিল গুলো জানতে হবে।

বুঝতেই পারছেন,যে কোন ভালো স্কিল জানা থাকলে আপনি কাজ পাবেন। হয়তো আপনার কাজের সিস্টেম গুলো সামনে চেইঞ্জ আসবে। কিন্তু আপনার স্কিল জানা থাকলে ফ্রিলেন্সিং মার্কেট প্লেসে কাজ পাবেন।

এস ইও স্পেশালিষ্ট

সার্স ইঞ্জিন অফটিমাইজেশন। অর্থাৎ কোন ওয়েবসাইটকে আপনি গুগলের সার্স ইঞ্জিনের প্রথম পেইজে নিয়ে আসার জন্য যে কাজ গুলো করবেন সেই কাজ গুলোকেই বলা হয় এসইও। এই ট্রেক টা একটা ইউনিক ট্রেক বলতে পারেন। এর তেমন শাখা প্রশাখা নেই।

এই একটা ট্রকের উপর আপনার স্কিল থাকলে আপনি অনলাইনে টিকে থাকতে পারবেন। এসইও স্পেশালিষ্ট দের অনেক বেলু। বিশ্বাস না হলে ফ্রিলেন্সিং মার্কেট প্লেস গুলোতে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।

ডিজাইনার 

খুব ছোট একটি শব্দ ডিজাইনার। বাট এর বেপকতা অনেক। কত টাইপের ডিজাইনার আছে সেটা নিয়ে আলাদা ভাবে আর্টিকেল লিখে বলতে হবে। আমি এখানে দুই/তিনতা নিয়ে লিখিছি-

    1. ফটোশফ/এলাস্ট্রেটর ডিজাইনার– আপনি যদি ফটোশপ আর এলাস্ট্রেটর এই দুইটা সফটওয়ারের কাজ ভালো ভাবে জেনে থাকেন তাহলে ফ্রিলেন্সিং প্লাটফর্ম আপনার জন্যই। এই দুইটা সফটওয়্যার এর কাজ এত বেশি পরিমানের যেটা বলে শেষ করা যাবেনা। ফ্রিলেন্সিং এ ডিজাইনারদের অনেক বেলু। যদিও কাজের প্রাইজ ছোট ছোট আকারে হয়ে থাকে বাট কাজের পরিমান বেশি। আর এই ট্রেকে কাজ পেতে মোটামুটি সহজ। আর যদি ভালো মানের ডিজাইনার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সত্যিই অনেক সহজ।
    2. আফটার ইফেক্ট স্পেশালিষ্ট – আফটার ইফেক্ট এর কাজ এখন অনেক পরিমানে বেড়েছে আর সামনে এর পরিমান আরো বাড়বে। মুভি,ভিডিও তে যে পরিমানের আফটার ইফেক্ট এর কাজ হচ্ছে এখন – বলাই যায় এই ট্রেকে স্পেশালিষ্ট মানুষের বেলু অনেক হারে বাড়ছে এবং সামনে আরো বাড়বে।

ডিজাইনারদের কেটাগরি নিয়ে এত অল্পতে বলা সম্ভব না। তবুও বলেছি। আরো অনেক টাইপের ডিজাইনার আছে ফ্রিলেন্সিং প্লাটফর্মে। এই দুইটা নিয়েও যদি কেউ ভালো মানের কাজ জেনে থাকে তার জন্য ফ্রিলেন্সিং করা খুব ইজি ব্যাপার।

কনটেন্ট রাইটার

কনটেন্ট রাইটার অনেকটা এস ইউ এর মত ইউনিক ট্রেক। তবে এর মাঝে কিছু কেটাগরি বাগ করা যায় যেমন – রিভিউ কনতটেন্ট রাইটার,ওয়েবসাইট কনটেন্ট রাইটার, অ্যামাজন প্রোডাক্ট কনটেন্ট রাইটার ইত্যাদি।

মূল ব্যাপারটা কিন্তু একই। আপনাকে যে কোন বিষয়ের উপর ভালো মানের আর্টিকেল লিখা জানতে হবে। সব চেয়ে সহজ ট্রেকের মধ্যে এই ট্রেক টি আবার কঠিন ও কম না।

যে কোন একটা বিষয় নিয়ে লিখতে পারাটা অনেক পরিশ্রম আর ধৈয্যের ব্যাপার। এই পরিশ্রম আর ধৈয্য যদি কারো থাকে এবং লিখার হাত যদি ভালো হয় তাহলে তার জন্য এই ট্রেকে ফ্রিলেন্সিং করা খুবি সহজ।

কারন কনটেন্ট রাইটার দের প্রচুর বেলু। ফ্রিলেন্সিং মার্কেট প্লেস গুলোতে আপনি গেলেই দেখতে পারবেন কি পরিমানের মানুষ কনটেন্ট লিখে অর্থ উপার্জন করতেছে।

কনটেন্ট রাইটার নিয়ে যতটুক বলেছি,আশাকরি বুঝেছেন। কনটেন্ট রাইটার হতে আপনাকে ভাষার উপর ভালো নলেজ থাকতে হবে এবং লিখার অভ্যাস ও থাকবে হবে।

ফ্রিলেন্সিং নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একটা সময় ফ্রিলেন্সিং ছিলো অল্প কিছু দেশের ভিতর। আর আজ পুরো বিশ্বের মানুষ ফ্রিলেন্সিং নিয়ে জানছে, ফ্রিলেন্সিং করে অনেক মানুষ অর্থ উপার্জন করছে। সামনের জেনারেশনে এই পেশা আরো অনেক জনপ্রিয় হবে।

আউটসোর্সিং কি?

আউটসোর্সিং নিয়ে খুব সহজে বললে বুঝায় – অনলাইন থেকে যে কোন একটা মাধ্যমে ইনকাম জেনারেট করা। আপনার মাধ্যম টি হতে পারে ফ্রিলেন্সিং হতে পারে আপনি একজন এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আউটসোর্সিং করছেন, হতে পারে আপনি একজন বিজনেজম্যান হিসেবেও অনলাইন থেকে আউটসোর্সিং করে টাকা ইনকাম করছেন।

তাহলে বলা যেতে পারে সকল ফ্রিলেন্সার হলো আউটসোর্সার বাট সকল আউটসোর্সাররা ফ্রিলেন্সার না।

মানুষ অনেক রকম কাজ করে অনলাইন থেকে ইনকাম জেনারেট করে থাকে আর এই ইনকাম জেনারেট করার টোটাল সিস্টেমটাকেই আউটসোর্সিং বলে।

আপনি একজন খুব ভালো ইউটিউবার হয়ে যদি ইনকাম জেনারেট করতে পারেন – তাহলে আপনিও কিন্তু আউটসোর্সিং করছেন ব্যাপারটা এমনি।

অনলাইনে যত পদ্দ্বতিতে মানুষ ইনকাম জেনারেট করে থাকে সকল পদ্ধতিকেই আউটসোর্সিং বলা হয়ে থাকে।

ফ্রিলেন্সিং এবং আউটসোর্সিং নিয়ে আলাদা ভাবে না লিখে আমি এক সাথে লিখেছি যেন – দুইটার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন আপনি। আপনাকে যে শুধু ফ্রেলেন্সার হয়েই ইনকাম করে যেতে হবে ব্যাপারটা তেমন না। সময়ের সাথে সাথে আপনার কাজের ধরণের পার্থক্য আসতে পারে।

প্রথমে আপনি কয়েক বছর ফ্রিলেন্সিং করে ইনকাম করলেন। পরে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ভাবে জানলেন এবং আপনার ইচ্ছে হলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও ইনকাম করতে পারবেন।

সর্বোপরি বলতে চাই – আপনি যদি সত্যিই অনলাইন থেকে ইনকাম জেনারেট করতে চান তাহলে আপনাকে যে কোন পার্টিকুলার কোণ বিষয়ের উপর আগে নলেজ গেইন করতে হবে, ভালো ভাবে ঐ পার্টিকুলার বিষয়ের উপর স্কিল বাড়াতে হবে।

এবং যখন মনে হবে আপনি সেই পার্টিকুলার কাজটি খুব ভালো ভাবেই পারবেন তখন আপনি অনলাইনে কাজ করার জন্য নিজেকে প্রমান করতে পারবেন।

কাজ না শিখেও কিছু রঙ ওয়েতে ইনকাম করা যায় বাট সেই রঙ ওয়ে আপনার জন্য ভালো ফিউচার বয়ে আনবেনা। তাই অনলাইনে সাকসেস হবার জন্য আগে কাজ শিখে নেওয়া অপরিহায্য।

অনেক কথাই বলেছি। ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন। আমার ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক কারণ আমি মানুষ, আর ভুল মানুষের হবেই।

ভালো লাগলে আর্টিকেলটি আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে শেয়ার করবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।

ধন্যবাদ !!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here